বন্ধুত্বের কয়েকটি ধাপ।জীবন থেকে হারানো সে দিন গুলো।মনে পড়লে খুব খারাপ লাগবে
জীবনের চার পর্যায়ে গিয়ে এদেশের মানুষ বন্ধু হারায়।
এক, ক্লাস নাইনে উঠার পর;
দুই, স্কুল শেষে কলেজে গিয়ে;
তিন; কলেজ জীবন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর;
চার, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের পর।
এই পর্যায়গুলোকে মানুষ চেনার পর্যায়ও বলা যায়, যেহেতু আমাদের পাঠ্যসুচীতে কিভাবে মানুষ চিনতে হয় তা দেয়া নেই।
এক, হঠাত করেই ক্লাস এইটের বার্ষিক পরীক্ষার পর, সেই ছোট্টবেলার থেকে একসাথে বড় হওয়া বন্ধুটা আলাদা বিভাগে পড়ে বলে, একই বেঞ্চে আর বসা হয় না। দুষ্টুমির কারণে আর ক্লাস ক্যাপ্টেন দুই বন্ধুর নাম একসাথে ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে রাখেনা।
দুই, এসএসসি পরীক্ষার পর, ভালো রেজাল্টের ভিত্তিতে কলেজে ভর্তির সময়, এক বিষয়ে জিপিএ ফাইভ মিস করা বন্ধুটা আলাদা কলেজে ভর্তি হয়। দুজনের সময়ের মিল থাকেনা বলে, আস্তে আস্তে দেখা হওয়া কমে যায়। তারপর একদিন বন্ধুত্ব গড়ায় শুধুমাত্র স্কুলের পুনর্মিলণী অনুষ্ঠান পর্যন্ত।
তিন, কলেজ শেষে আরো দুয়েকজন বন্ধু হারায়, এই পর্যায়ে এসেই মানুষ আস্তে আস্তে মানুষ চেনার নিয়মগুলো জানতে শুরু করে। এবারো এইচএসসির রেজাল্টে তারতম্যের কারণে, একই কোচিং এ ভর্তি হওয়া বন্ধুদের ব্যাচ আলাদা হয়ে যায়! তারপর ভর্তি যুদ্ধের পর, একেক বন্ধুর ঠিকানা হয় একেক বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই পর্যায়ে এসে হঠাৎ করেই প্রিয় বন্ধুর নতুন বন্ধুর সংখ্যা এত বেশী বেড়ে যায় যে কেউ কেউ ভুলে যায় 'একেই আমি সবচাইতে ভালো বন্ধু ভাবতাম' । বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং এর মতো, কারো কারো বন্ধুত্বেও র্যাংকিং সৃষ্টি হয়। এমনও দৃশ্য দেখা যায়, দিনের মধ্যে ষোলঘন্টা একসাথে কাটানো বন্ধুটা রাস্তার পাশে কখনো দেখে এড়িয়ে যায়, কেউ কেউ নতুন বন্ধুদের সামনে আত্নসম্মান ধরে রাখতে চায়... কেউ কেউ ভুলে যায় 'এই আমার বেস্টফ্রেন্ড' বলে পরিচয় করিয়ে দিতে।
চার, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর দীর্ঘসময় একসাথে থাকার পর নতুন কিছু বন্ধু আবারো মনের খুব কাছে চলে আসে। দেশের সবচাইতে খারাপ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ছাত্রটারও বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ভালো কিছু বন্ধু জুটে যায়। রাতদিন হাসাহাসি, মারামারি করা বন্ধুদিবসগুলোরও অবসান হয়। যে যার শহরে ফিরে যায়, যোগাযোগ থাকে প্রথমদিকে খুব বেশী। তারপর আস্তে আস্তে শোনা যায় একেকজনের কর্মজীবনে প্রবেশের খবর। ঠিক এখানেই চলে কখনো রাজনীতি...। তারপর এখানে এসে কিছুদিন পর বন্ধু পড়ে থাকে 'ফ্রেন্ডলিস্ট' নামক ভার্চুয়াল জগতে। প্রতিদিন কিছু আইডির পাশে সবুজ বাতি জ্বললেও ইগো কিংবা আলসেমি বিসর্জন দিয়ে কেউ কাউকে আর টেক্সট দেয় না, "শালা কল ধরস না ক্যান!" বলে।
...............বন্ধু এবং বন্ধুত্ব হারানোর এসব পর্যায় পার হয়ে এসেও কিছু বন্ধুত্ব বেঁচে থাকে। কিছু বন্ধুত্ব বেঁচে থাকে দূরত্বের বাঁধা পেরিয়ে। বন্ধুত্ব সবসময় 'সময়' এর মাপকাঠিতে মাপা যায় না। দশ বছরের পুরনো বন্ধুটাই সবসময় ভালো বন্ধু হয় না। দুবছরের পরিচিত বন্ধুটাই কখনো কখনো প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে ফেরেশতার মতো পাশে থাকে। এদের সংখ্যা নিতান্তই কম। যাদের অনেক ফ্রেন্ড সার্কেল মেইনটেইন করতে হয়, যাদের চলতি পথে প্রতিদিন একশো বন্ধুর সাথে দেখা হয়... দিনশেষে তাদের বেশীরপভাগই ভেতরে ভেতরে বন্ধুবিহীন জীবন কাটায়। আড্ডা দেয়া,ঘুরাঘুরি, এসাইনমেন্ট করার জন্য বন্ধু অনেক পাওয়া যায়। ভেতরের কিছু কথা থাকে, যা সৃষ্টিকর্তা ব্যাতীত শুধুমাত্র একজন কিংবা দুজন মানুষকে বলা যায়। অনেক বসন্তের উত্থান-পতনের গল্পগুলোর শোনার মতো যোগ্যতা রাস্তায় দেখা হওয়া ডুড কিংবা হ্যাংআউটে সাথে যাওয়া সব বন্ধুদের থাকেনা, থাকে দুয়েকজনের! এ বন্ধুগুলোই চোখের আড়াল হলে মনের আড়াল হয় না !
ভালো থাকুক পৃথিবীর সমস্ত বন্ধুত্ব
এক, ক্লাস নাইনে উঠার পর;
দুই, স্কুল শেষে কলেজে গিয়ে;
তিন; কলেজ জীবন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর;
চার, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের পর।
এই পর্যায়গুলোকে মানুষ চেনার পর্যায়ও বলা যায়, যেহেতু আমাদের পাঠ্যসুচীতে কিভাবে মানুষ চিনতে হয় তা দেয়া নেই।
এক, হঠাত করেই ক্লাস এইটের বার্ষিক পরীক্ষার পর, সেই ছোট্টবেলার থেকে একসাথে বড় হওয়া বন্ধুটা আলাদা বিভাগে পড়ে বলে, একই বেঞ্চে আর বসা হয় না। দুষ্টুমির কারণে আর ক্লাস ক্যাপ্টেন দুই বন্ধুর নাম একসাথে ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে রাখেনা।
দুই, এসএসসি পরীক্ষার পর, ভালো রেজাল্টের ভিত্তিতে কলেজে ভর্তির সময়, এক বিষয়ে জিপিএ ফাইভ মিস করা বন্ধুটা আলাদা কলেজে ভর্তি হয়। দুজনের সময়ের মিল থাকেনা বলে, আস্তে আস্তে দেখা হওয়া কমে যায়। তারপর একদিন বন্ধুত্ব গড়ায় শুধুমাত্র স্কুলের পুনর্মিলণী অনুষ্ঠান পর্যন্ত।
তিন, কলেজ শেষে আরো দুয়েকজন বন্ধু হারায়, এই পর্যায়ে এসেই মানুষ আস্তে আস্তে মানুষ চেনার নিয়মগুলো জানতে শুরু করে। এবারো এইচএসসির রেজাল্টে তারতম্যের কারণে, একই কোচিং এ ভর্তি হওয়া বন্ধুদের ব্যাচ আলাদা হয়ে যায়! তারপর ভর্তি যুদ্ধের পর, একেক বন্ধুর ঠিকানা হয় একেক বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই পর্যায়ে এসে হঠাৎ করেই প্রিয় বন্ধুর নতুন বন্ধুর সংখ্যা এত বেশী বেড়ে যায় যে কেউ কেউ ভুলে যায় 'একেই আমি সবচাইতে ভালো বন্ধু ভাবতাম' । বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং এর মতো, কারো কারো বন্ধুত্বেও র্যাংকিং সৃষ্টি হয়। এমনও দৃশ্য দেখা যায়, দিনের মধ্যে ষোলঘন্টা একসাথে কাটানো বন্ধুটা রাস্তার পাশে কখনো দেখে এড়িয়ে যায়, কেউ কেউ নতুন বন্ধুদের সামনে আত্নসম্মান ধরে রাখতে চায়... কেউ কেউ ভুলে যায় 'এই আমার বেস্টফ্রেন্ড' বলে পরিচয় করিয়ে দিতে।
চার, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর দীর্ঘসময় একসাথে থাকার পর নতুন কিছু বন্ধু আবারো মনের খুব কাছে চলে আসে। দেশের সবচাইতে খারাপ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ছাত্রটারও বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ভালো কিছু বন্ধু জুটে যায়। রাতদিন হাসাহাসি, মারামারি করা বন্ধুদিবসগুলোরও অবসান হয়। যে যার শহরে ফিরে যায়, যোগাযোগ থাকে প্রথমদিকে খুব বেশী। তারপর আস্তে আস্তে শোনা যায় একেকজনের কর্মজীবনে প্রবেশের খবর। ঠিক এখানেই চলে কখনো রাজনীতি...। তারপর এখানে এসে কিছুদিন পর বন্ধু পড়ে থাকে 'ফ্রেন্ডলিস্ট' নামক ভার্চুয়াল জগতে। প্রতিদিন কিছু আইডির পাশে সবুজ বাতি জ্বললেও ইগো কিংবা আলসেমি বিসর্জন দিয়ে কেউ কাউকে আর টেক্সট দেয় না, "শালা কল ধরস না ক্যান!" বলে।
...............বন্ধু এবং বন্ধুত্ব হারানোর এসব পর্যায় পার হয়ে এসেও কিছু বন্ধুত্ব বেঁচে থাকে। কিছু বন্ধুত্ব বেঁচে থাকে দূরত্বের বাঁধা পেরিয়ে। বন্ধুত্ব সবসময় 'সময়' এর মাপকাঠিতে মাপা যায় না। দশ বছরের পুরনো বন্ধুটাই সবসময় ভালো বন্ধু হয় না। দুবছরের পরিচিত বন্ধুটাই কখনো কখনো প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে ফেরেশতার মতো পাশে থাকে। এদের সংখ্যা নিতান্তই কম। যাদের অনেক ফ্রেন্ড সার্কেল মেইনটেইন করতে হয়, যাদের চলতি পথে প্রতিদিন একশো বন্ধুর সাথে দেখা হয়... দিনশেষে তাদের বেশীরপভাগই ভেতরে ভেতরে বন্ধুবিহীন জীবন কাটায়। আড্ডা দেয়া,ঘুরাঘুরি, এসাইনমেন্ট করার জন্য বন্ধু অনেক পাওয়া যায়। ভেতরের কিছু কথা থাকে, যা সৃষ্টিকর্তা ব্যাতীত শুধুমাত্র একজন কিংবা দুজন মানুষকে বলা যায়। অনেক বসন্তের উত্থান-পতনের গল্পগুলোর শোনার মতো যোগ্যতা রাস্তায় দেখা হওয়া ডুড কিংবা হ্যাংআউটে সাথে যাওয়া সব বন্ধুদের থাকেনা, থাকে দুয়েকজনের! এ বন্ধুগুলোই চোখের আড়াল হলে মনের আড়াল হয় না !
ভালো থাকুক পৃথিবীর সমস্ত বন্ধুত্ব
No comments